আকাশ কালো, থেকে থেকে সমানে হচ্ছে বৃষ্টি
ফ্রিজ প্রায় খালি, ঘরে একটাও নেই মিষ্টি
বাবা তো অফিসের কাজে, এক মাস হলো চেন্নাই
আজ রবিবার, ঘরে ১২ বছরের তিন্নি আর তাঁর মা আছে তাই
সকাল সকাল হঠাত ঘরের বেজে উঠলো বেল্
রান্না বসাবে বলে মা সবে কড়াই তে ঢেলেছে তেল
ছুটে গিয়ে তিন্নি দরজা খুলেই খুশী তে আত্মহারা
ছোট কাকু আর কাকিমার সাথে এসেছে বোনু 'তারা'
রান্নাঘর থেকে অবাক হয়ে মা বেড়িয়ে এসে
'একি ঠাকুরপো তোমরা?' বলে হেঁসে হেঁসে
উত্তর এলো 'আসব বলে কিছুই ঠিক ছিলনা গো !
পাশের পাড়াতে অন্য কাজে একটু আসতে হয়েছিল
কাজ টা শেষ হতে আরও খানিক ক্ষণ লাগবে
'তারা' বায়েনা ধরল সে তিন্নি বাড়ি যাবে
ততক্ষনে তিন্নি -তারার খেলা শুরু, কি মজা
একটু পরেই মা হাঁক পাড়ে "তিন্নি একটু শুনে যা "
২০০ টাকা দিয়ে বলে দোকানে যা তারাতারি
নিয়ে আয় সিঙ্গারা, চমচম, সন্দেশ আর রাবড়ি
সব কিছু আনলো তিন্নি, সাথে ২০০ গ্রাম মিষ্টি দই
বিল দেখে মা বলে "কি রে, ফেরত টাকা কই?"
তিন্নি অবাক হয়ে বলে , "মা, সেটা তো আনতে বলো নি"
মায়ের চক্ষু চড়ক গাছ- মেয়ের এ কি কান্ড দিকিনি
বকাবকি সবে শুরু করেছিল মা, ছুটে আসে কাকা কাকী
বাচ্চা মেয়ে, এত হিসেব সব , ও পারে নাকি?
মিষ্টি কাকুর চেনা দোকান, ভুল করে টাকা ফেরায় নি হয়েতো
মা বলে- না দোষ তিন্নির, ও আর বাচ্চা নেই অত
যাই হোক, এ যাত্রায় তিন্নি গেল বেঁচে
ফেরত টাকা নিতে হয়, সে শিক্ষা ভালই পেয়েছে
বেশ কিছুদিন পর মা একদিন তিন্নি কে ডাকে "শোন !
একটু দোকানে যা, ব্যালান্স শেষ, করা যাচ্ছেনা ফোন
আবার করে ফেরত টাকার ঝামেলা না হয়ে যাতে
১০০ টাকার রিচার্জ করতে মা ১০০ টাকা ই দেয় হাতে
রিচার্জ করিয়ে, টাকা দিয়ে তিন্নি দাঁড়িয়ে ভাবে
এবার আর ভুল হবেনা, ফেরত টাকা নিয়েই যাবে
তাই তিন্নি বলে "কাকু আমার ফেরত টাকা দাও"
কাকু বলে, ফেরত আবার কিসের, তুমি বাড়ি যাও
এবারে তিন্নি কিছু শুনবেনা, ওর ফেরত টাকা চাই ই
দোকানদারের মাথায় হাত, ভাবে কি করে কী বোঝাই
তিন্নি কেঁদে ওঠে বলে - মা ভারী বকা দেবে
এক ভুল বার-বার করেনা, সে যে ফেরত টাকা নেবে
কাকু তখন বুঝিয়ে বলে- "মা কিছু বলবেনা
এইবারে যে সত্যি সত্যি টাকা ফেরত হয়না"
মনের দুঃখে কাঁদ-কাঁদ তিন্নি ঘরে ফিরে এলো
সব শুনে মা তাকে বুকে জড়িয়ে নিল
এই অবধিতা কারো যে চিরকাল থাকেনা
ছল-চাতুরী শিখতে কারো বিশেষ সময় লাগেনা
তাও তিন্নির সরলতা যেন জীবন ভর বজায় থাকে
এই প্রার্থনা করে তিন্নিকে মা বুকে আগলে রাখে